মোঃ অপু খান চৌধুরী।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজার বিরুদ্ধে ওষুধ না কিনেই প্রায় ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দের ওষুধ কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে রোগীরা তা পাচ্ছেন না।
সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রোগীদের জন্য নন-ইডিসিএল ওষুধ কেনার জন্য বরাদ্দ থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সংগ্রহ করা হয়নি। তবে বিল-ভাউচার ও দাপ্তরিক নথিতে সম্পূর্ণ ওষুধ ক্রয়ের তথ্য দেখানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে ওষুধ সংকট চরম আকার ধারণ করায় বিষয়টি সামনে আসে।
হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাগজে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ দেখানো হলেও বাস্তবে তা পাওয়া যায়নি। এতে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা এ অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শত শত দরিদ্র নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ চিকিৎসা নিতে আসেন। উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার আশায় তারা এখানে আসলেও বাস্তবে সরকারি ওষুধ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ওষুধের পরিবর্তে চিকিৎসকরা রোগীদের বিভিন্ন কোম্পানির দামি ওষুধ লিখে দিচ্ছেন, যা কিনে খাওয়ার সামর্থ্য অনেকেরই নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১৯ লাখ টাকার ওষুধ ক্রয়ের কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র এক লাখ টাকার মতো ওষুধ কেনা হয়েছে। এসব বিষয়ে মুখ খুললে যেকোনো ছুতোয় বদলি কিংবা শোকজের ভয় দেখানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মীর হোসেন ও খোদেজা বেগম,পারভিন আক্তারসহ অনেকেই বলেন, আমাদের মতো গরিব মানুষের একমাত্র ভরসা সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু এখানে এসে ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়। বাইরের দামি ওষুধ কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই।
একজন রিকশা চালক জুলহাস মিয়া বলেন, আমি দীর্ঘ দিন যাবত জ্বর নিয়ে সরকারি হাসপাতালে আসলে ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর টাইফয়েড জ্বর ধরা পড়ে। হাসপাতাল থেকে শুধু আমাকে প্যারাসিটামল প্রদান করে কিন্তু আমি বাহির থেকে অনেক দামি এন্টিবায়োটিক কিনে নিতে হয়েছে, আমাদের একমাত্র ভরসা এ হাসপাতাল আমরা যদি ওষুধ কিনে খেতে হয় তাহলে আমাদের অবস্থা খারাপ এবং চিকিৎসা করবো না দুবেলা ভাত খাব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমি কোনো অর্থ আত্মসাৎ করিনি। নিয়ম অনুযায়ী সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। একটি মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, টেন্ডার হওয়ার পর ওষুধ কেনা হয়েছে আমি জানি, তবে যদি না কিনে থাকে তদন্ত সাপেক্ষে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আগামী সপ্তাহে আমি ব্রাহ্মণপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরজমিনে তদন্ত করব।